অনেক অনেকদিন আগে বাংলায় এক ঘরে এক ছোট্ট শিশুর জন্ম হয়। খুবই ছোট্ট, পৃথিবীর ১৪ কোটি ভাগের এক ভাগ মাত্র। সে পাঁচ বছর বয়স ছাড়তেই মায়ের দুধ আঁচল ছেড়ে দাড়ি ধরিয়ে ফেলে। এক ভোরে ভাই বন্ধু সখী নানি দাদি ছেড়ে সে এক ছোট্ট মোরগাকৃতির ঘোড়ায় চড়ে আসাম রাজ্যে পালিয়ে যায়।
সেখানে সব্বাই জিজ্ঞেস করল, বাবা তোমার নাম কী?
সে বলল, ইয়া মাওলানায়া নাভিসায়া। ইঁয়াঁ মাঁওলাঁনাঁয়াঁ নাঁভিঁসাঁয়াঁ।
তুমি আমাদের রাজা হবে।
ইঁয়াঁ হঁইতেঁয়াঁনাঁ।
তখন সমবেত জনতা তাকে বাঁশের সিংহাসনে বসিয়ে, ময়ূর মুকুট মাথায় চড়িয়ে, রাজা বানাল।
সে তো একা মানুষ।
সে নাক ডেকে ঘুমাল। পেট পুরে খেল। গলা খুলে হাসল। নাক ঝেড়ে হাঁচল। চোখ ভরে দেখল। পেট ঝেড়ে হাগল। থলে চিপে পেচ্ছাপ। এরকম।
দশ বছর সুখে থাকার রাজ্যে অনাবৃষ্টি। মানুষের মেদ বেড়েছে। ক্ষুধামান্দ্য মনের-রোগ হাগা-আটকানো অনাবৃষ্টি খরা দুর্ভিক্ষ।
মাওলানা খাওয়া ছাড়লেন, নাওয়া ছাড়লেন, চষলেন সারা আসাম রাজ্য। মানুষের মুখে হাসি ফুটল।
মাওলানা বললেন, বিদায়, এবার মায়ের কোলে ফিরি।
(রচনাকাল: ১৯৯০)





