Home » চিত্রিত নীল হরিণবেলা।। শুভ্র সরকার

চিত্রিত নীল হরিণবেলা।। শুভ্র সরকার

একটি আগর গলা সন্ধ্যায়
আর্দ্র আবহাওয়ার কাছে
যেভাবে ধরে রেখেছে লাউয়ের পুরুষ ফুল
ব্লীডিং হার্ট–

পথের পাশে ছোট যে মেয়েটি খেলা করছিল–
তার নাম রেণু
রেণু জন্মের সময় তার মাকে হারিয়েছে
বৃষ্টি ছিল না সেই সন্ধ্যায়
তবু রেণু তার পছন্দের ভেতর
একটা বৃষ্টিভেজা লাল জবা নিয়ে বসেছিল
এই বসে থাকার দিকে তাকালে
আমার কেবল মনে হয়
বাবার সাথেই আমার বসে থাকার
দূরত্ব ছিল অনেক বেশি

যে ফুলটা অংকুরেই ঝরে পড়ছে
তাকে ক্ষমা করে দিও
টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টার
তোমাদের নির্দেশিত পথে যেন হয়
চিত্রারণ্যের প্রত্যাবর্তন
বহু দূর আকাশে ঘুরে মরা পাখি
যার ব্যাখ্যা মেটাফিজিক্যাল
ফলে কেউ কিছু বলবে না এসব ব্যাপারে।

আকাশে গৃহ কোথা?
আহা জলাক্ষরে মূর্ছনাও গায়
ভ্রমরকমল– জুড়ে জুড়ে
ডুবে মরে, ঘুরে ঘুরে হায়

সামান্য অভিমান ছিল আমার
মায়ের কাছে– মুখোমুখি বসে থাকার যদিও
কোন তারিখ লেখা হয় নাই
আমার মায়ের ভূগোল থেকে
মা, কখন মেজাজ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে
আমাদের আস্থার উপর

আমিতো সন্ধ্যার জঙ্গলে বসেও ভাবছি–
একটা লাল রঙের মাশরুম
আরেকটা সূর্যকে দেখছে–
একটা লেডিবাগ আমার কাছে এসে
লাল বলের মতো ফলের কথা জানতে চাইছে
যখন খানিক আলো এসে
পুরা অন্ধকারকে মূর্ত করছে

আমার হাতের রেখায়, আমার নিয়তি
দূরকল্পনায় তুমি ভর করে থাক
মৌল বাতাস–

Death is stronger than i am.

বাতাসের ঘূর্ণায়িত পথে
ফুঁ দিযে বেঁচে থাকো মণিময়া
দূরদেশে অন্ধকার
পরাণ বাতাসে উড়ে যায় শাদাপাখি আমার
যদিও ভাঙিবো না তার উড়াল
সেখানেও কী আছে বিকৃত স্যাডিজম?

অ্যাবসার্ড ভাবনা
ভাবতে পারো– ভাবনা কোন পরিতাপের প্রতীক
এতো বিশদ হৃদয় কী তারই
অনির্ণেয় বহুর পরাণ?

হেমন্তের রক্তিমাভা আমার
আশ্চর্য সব সমর্থিত নিয়ম
আহা মন্দ্র – চূড়ামণি
শস্যের নবান্ন এনেছে আজ
বহুপ্রহরের তল
রাঙতা ময়ূরের পিউপিল ছোট হয়ে আসে
এক সবুজের ঢলে পড়া আর্তনাদ থেকে
একজন মানুষ হেঁটে যায় কম্পনহীন পদক্ষেপে
যেন মর্টন স্মিথের লেখা সেই বইয়ের
‘যিশু দ্য ম্যাজেশিয়ান’

মানুষটা বাতাস জড়িয়ে ধরতে পারত
বদল করতে পারত হৃদয় পাখির সাথেও
তবে সে কিছুই করল না
আমি বুঝলাম, মানুষের ভেতরেও থাকে আরেক মহাজগত
মানুষ মূলত বাস্তুশ্রাস্ত্রমতে বস্তু মানুষ

সাদা তেলাপোকার মতো ভেসে যাচ্ছে মেঘ
একটা সবুজ পাতা বিঁধে আছে লাল ফুলে
আমি সেখানে স্বস্তিকা কল্পনা করলাম–
কল্পনায় ক্রুরতা আঁধার
বেদের রুদ্র থেকে পৌরাণিক শিবের আঁধার
যে আঁধারে চাঁদি ঠোঁট মুনিয়া পাখি
কখনোই আসেনি
জমেনি কখনোই ধতুরা ফুলে
সেই পবিত্র – জল।

এইতো সেদিন রস্তার ধারে
বৃষ্টির জমে থাকা জলে, দেখলাম–
একটা শালিক এক ঠ্যাং তুলে
জলের চেয়ারে বসে আছে
আর ডানা ঝাপটাচ্ছে সেই জলে
গাছের পাতাগুলো কাঁপছিল
যেন পাতায় সেইসব ছায়া – চেহারাগুলো ভাসছিল
যারা আদিম শিকারী, ওহ পাখি
আমার জানা ছিল না যে,
পাতারাও পরিবর্তন হয়ে উত্তর থেকে
যায় যে দক্ষিণে
আরলিয়া কেন আলোর দিকে বেঁকে যায় না
জানো নাই– তুমি রৌদ্রজন্ম নিয়েও

বহুদূর ধরগ্রাম–
পোড়া গাছের কথা নিয়ে
সেখানে শুনতে যেতে হবে একদিন
রোজ রাতের নক্ষত্রবাগানের গান।

একটা জীবন– আমাকে আগলে ধরো
গুরু সর্বচরাচরে
কলিতে আমি গেয়ে যাব নাম
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।।
—–
(দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ)
.
.
.

শুভ্র সরকার

জন্ম ০৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯

প্রকাশিত কবিতার বইসমূহ : বিষণ্ণ স্নায়ুবন (২০২০) ; দূরে, হে হাওয়াগান (২০২১)
বাবা ও দৃষ্টিঘোড়া (২০২২); সূর্যঘরের টারবাইনে (২০২৩)
রামায়ণ থেকে "যাদুর সন্ধ্যা" (২০২৩); রোদের অলিভিয়া (২০২৪)
ইহকাল (২০২৪); অরণ্যে এক কাঠের শতাব্দী (২০২৫)

প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থ:
ফুলের ফসল (২০২৬)
চিত্রিত নীল হরিণবেলা
হরিজন পল্লীর চাঁদ

প্রকাশিতব্য মুক্তগদ্যের বই:
রূপালী মাছের কান্না

সম্পাদিত সাহিত্যের ছোটকাগজ:
মেরুদণ্ড
আগ্রহ: কবিতায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা
Scroll to Top