Home » ফুলের ফসল কাব্যগ্রন্থ থেকে দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।। শুভ্র সরকার

ফুলের ফসল কাব্যগ্রন্থ থেকে দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।। শুভ্র সরকার

ঐ যে কার্তিকের মরা রহস্য
‘কার্তিক মাঠের চাঁদ’
যেন বহু জন্মের পাপ ক্ষয়
আমি মরে যাবার পরেও রয়ে যাবে
বিষ্ণু তখন যোগনিদ্রায়
কবে ধ্যানসন্ধ্যায় উদ্যামক্ষয়িষ্ণু পাবে
অন্ধকারের অবতার
অন্ধকার ঘুরে ঘুরে কোথায় চলে যায়
যাদু – টুনার সময়
এমন সন্ধ্যায় সেই গ্রাম
আসামের মায়ান- যাযাবর ছিঁড়ে যায়
সেই অজানাকে ঢেকে রাখছে কী
ছায়ার আদিম দেবতা ‘এরেবাস’।

প্রশান্তির বিকেল
ফুলে কাঁটাতার, পতন তারই হয়
সিদ্ধান্তহীনতায় যে জীর্ণে উড়ে গেছে
হায় ফুল্লুরা
মুখোমুখি হয়ে পড়ছে
জালেম ভাষাভঙ্গির মতো শৈথিল্য ঈগল
অশ্রুধারা কেন বুক চিরার মতো চোখ চিরে না
মেঘগুলো চাইলেই সহজেই
তাদের কাছে আসতে পারতো

শুধু মনে হয়- এই জীবন
স্পষ্ট গড়নের নয়
এটাই তো স্বাভাবিক
এই রাস্তা আমার নয়
যদিও আর একজন হেঁটে গেছে
হয়ত কিছুদূর আগেই
জানি তুমি এভাবেই ভাববে
দূরের পাহাড়ে কোন দেশ নাই
জনন বেদনায়
টিয়া পাখিদের সকল অন্ধকার
কেবল হৃদয়হীন মানুষ ও টের পায়

পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম খোরগোশরা
একই এলকায় থাকে না বেশিদিন
ইন্দ্রিয়গুলি বিরক্ত হয়ে যায়
দুই – তিনবার দেখলে মনে হয়
খোরগোশরা যখন মাথা উঁচুতে রাখে
তাদের সকল গতি হারিয়ে যায়
তা কে জানে বাতাস!

সূর্যের নিচে একটি ঘোড়া
কাছে গেলে একা হয়ে আসে
অথচ সে পরাধীন
লম্বা লম্বা পা মেলে
কখনও কখনও পরিবার নিয়ে থাকে
দাবার ছকে ঘোড়ার আড়াই চাল দেখে
একদিন আমিও ভেবেছি
প্রায় প্রতিটা মানুষ
মনে মনে একটা ঘোড়া পুষে
মৃতরা যা পারে না।

একঝাঁক পাখি উড়ে উড়ে পাড়ি দিচ্ছে
মালাউড়ি সবুজের গ্রাম
সম্ভবত পাখিদের একজন দলনেতা আছে
আছে আভিজাত্য স্বপ্নচারী হাওয়ায়
যখন কেউ তাকায় না
তার মানে কেউই তাকায় নি এমন তো নয়!
যাদের আকাশ থাকবে না
তারা তো কখনো জানবে না
একটা শকুন প্রচন্ড বাতাসের সাথে
কীভাবে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে।

কে জেনো এসে বলে গেল
ভালো আছি
এইটা অবাস্তব মিথ্যে মনে হলো
অপ্রফুল্লতাই হলো পৃথিবীর বড় স্বাধীনতা
স্বাধীনতা স্বপ্নহীন করে না
করে পরমচেতনাকে উপলব্ধি

নৃ ইন্দ্রিয়জ নিয়ে ভিক্ষুকেরা আসে
এক রবিবার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকে!
আবার কী অবহেলায় ঢেকে যাবে
সেই বৃদ্ধার ফিরে তাকানো
মনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে যে তাকানো
আমি কী এই দৃষ্টির সঙ্গে
আর কোনদিন দেখা দিব না

ফুটে ওঠা ভোরে
সোহাগ ভরে দিতে পারিনি যে স্পর্শ
শিউলি ফুলে
সেইসব কত কত ভোরে
শিশুরা নিস্তব্দতার রঙ লাগিয়ে
গেয়ে উঠেছিল ঝরাদের গান
ঝরে পড়া বিয়োগবেদনা
যা মূলত মতিচ্ছন্ন করে ফেলে
আমার ভেতরঘর সঞ্চয়।

শুভ্র সরকার

জন্ম ০৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯

প্রকাশিত কবিতার বইসমূহ : বিষণ্ণ স্নায়ুবন (২০২০) ; দূরে, হে হাওয়াগান (২০২১)
বাবা ও দৃষ্টিঘোড়া (২০২২); সূর্যঘরের টারবাইনে (২০২৩)
রামায়ণ থেকে "যাদুর সন্ধ্যা" (২০২৩); রোদের অলিভিয়া (২০২৪)
ইহকাল (২০২৪); অরণ্যে এক কাঠের শতাব্দী (২০২৫)

প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থ:
ফুলের ফসল (২০২৬)
চিত্রিত নীল হরিণবেলা
হরিজন পল্লীর চাঁদ

প্রকাশিতব্য মুক্তগদ্যের বই:
রূপালী মাছের কান্না

সম্পাদিত সাহিত্যের ছোটকাগজ:
মেরুদণ্ড
আগ্রহ: কবিতায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা
Scroll to Top